১০:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শ্রমিক ও জনগণের গণসংগ্রাম: পুঁজিবাদী লুটপাটের বিরুদ্ধে সংগঠিত প্রতিবাদ

জহির শাহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
  • Update Time : ০৭:১২:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
  • / ২২ Time View

 

জহির শাহ্, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি, ২৭ নভেম্বর ২০২৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বুধবার বিকেলে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক-অর্থনৈতিক সংঘর্ষের চিত্র ফুটে উঠল। জেলা সিপিবি, জেলা বাংলাদেশ জাসদ এবং জেলা বাসদ (মার্ক্সবাদী) যৌথ উদ্যোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এই কর্মসূচি কেবল পুঁজিবাদী লুটপাটের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের আয়োজন নয়; এটি শ্রমিক ও সাধারণ জনগণের শ্রেণিসংঘাতের সরাসরি প্রকাশ।

মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব চত্বরে। জেলা সিপিবির সভাপতি সাজিদুল ইসলাম সভাপতিত্ব করেন, এবং জেলা বাংলাদেশ জাসদের প্রভাষক জাফর আহমেদ আকসির সঞ্চালনা করেন। বক্তব্য রাখেন জেলা সিপিবির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ মো. জামাল, ভাসানী চর্চা কেন্দ্রের সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিলাল বনিক, অনুশীলন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুন নূর, জেলা সিপিবির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম স্বপন, জেলা বাংলাদেশ জাসদের সদস্য আবুল বাশার রতন এবং জাতীয় যুবজোটের জেলা আহ্বায়ক ছিদ্দিক আহমেদ নাসির।

প্রতিবাদকারীরা স্পষ্টভাবে দাবি জানাচ্ছেন—চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানির হাতে ইজারা বন্ধ হোক, এবং লালদিয়া ও পানগাঁও কন্টেইনার টার্মিনালের ইজারাচুক্তি বাতিল হোক। এ দাবি শুধু রাষ্ট্রীয় নীতি বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়; এটি দেশীয় সম্পদ ও শ্রমিক শ্রেণির স্বার্থকে সুরক্ষিত করার এক নৈতিক এবং ঐতিহাসিক দাবি। পুঁজিপতি শ্রেণি শ্রমিক ও সাধারণ জনগণের শ্রমের উপর দখল গড়ে নিজেদের মুনাফা নিশ্চিত করতে চায়, আর এই শোষণ রুখতে গণসংগ্রাম অপরিহার্য।

এ মানববন্ধন এঙ্গেলসের থেকে বলা যায়—এটি হলো আধুনিক পুঁজিবাদী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গণশ্রমিক শক্তির প্রথম সারির প্রতিরোধ। যেখানে পুঁজিপতি শ্রেণি দেশের শ্রম ও সম্পদ দখল করে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার আড়ালে নিজের স্বার্থ নিশ্চিত করছে, সেখানে সংগঠিত শ্রমিক ও সাধারণ জনগণই একমাত্র শক্তি যা এই শোষণ ভেঙে দিতে পারে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এই আন্দোলন প্রমাণ করে, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ যখন সংহত হয় এবং সচেতন হয়, তখন পুঁজিবাদী লুটপাটের অবিচার চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়। এটি কেবল স্থানীয় প্রতিবাদ নয়; এটি শ্রমিক শ্রেণির ঐক্য, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সামাজিক ন্যায়ের এক নবযাত্রা। ইতিহাস প্রমাণ করেছে—শ্রমিক শক্তি সংগঠিত না হলে পুঁজিবাদী শোষণ অব্যাহত থাকে, আর এই আন্দোলন সেই চক্রকে ভাঙার স্পষ্ট উদাহরণ।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শ্রমিক ও জনগণের গণসংগ্রাম: পুঁজিবাদী লুটপাটের বিরুদ্ধে সংগঠিত প্রতিবাদ

Update Time : ০৭:১২:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫

 

জহির শাহ্, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি, ২৭ নভেম্বর ২০২৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বুধবার বিকেলে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক-অর্থনৈতিক সংঘর্ষের চিত্র ফুটে উঠল। জেলা সিপিবি, জেলা বাংলাদেশ জাসদ এবং জেলা বাসদ (মার্ক্সবাদী) যৌথ উদ্যোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এই কর্মসূচি কেবল পুঁজিবাদী লুটপাটের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের আয়োজন নয়; এটি শ্রমিক ও সাধারণ জনগণের শ্রেণিসংঘাতের সরাসরি প্রকাশ।

মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব চত্বরে। জেলা সিপিবির সভাপতি সাজিদুল ইসলাম সভাপতিত্ব করেন, এবং জেলা বাংলাদেশ জাসদের প্রভাষক জাফর আহমেদ আকসির সঞ্চালনা করেন। বক্তব্য রাখেন জেলা সিপিবির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ মো. জামাল, ভাসানী চর্চা কেন্দ্রের সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিলাল বনিক, অনুশীলন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুন নূর, জেলা সিপিবির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম স্বপন, জেলা বাংলাদেশ জাসদের সদস্য আবুল বাশার রতন এবং জাতীয় যুবজোটের জেলা আহ্বায়ক ছিদ্দিক আহমেদ নাসির।

প্রতিবাদকারীরা স্পষ্টভাবে দাবি জানাচ্ছেন—চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানির হাতে ইজারা বন্ধ হোক, এবং লালদিয়া ও পানগাঁও কন্টেইনার টার্মিনালের ইজারাচুক্তি বাতিল হোক। এ দাবি শুধু রাষ্ট্রীয় নীতি বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়; এটি দেশীয় সম্পদ ও শ্রমিক শ্রেণির স্বার্থকে সুরক্ষিত করার এক নৈতিক এবং ঐতিহাসিক দাবি। পুঁজিপতি শ্রেণি শ্রমিক ও সাধারণ জনগণের শ্রমের উপর দখল গড়ে নিজেদের মুনাফা নিশ্চিত করতে চায়, আর এই শোষণ রুখতে গণসংগ্রাম অপরিহার্য।

এ মানববন্ধন এঙ্গেলসের থেকে বলা যায়—এটি হলো আধুনিক পুঁজিবাদী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গণশ্রমিক শক্তির প্রথম সারির প্রতিরোধ। যেখানে পুঁজিপতি শ্রেণি দেশের শ্রম ও সম্পদ দখল করে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার আড়ালে নিজের স্বার্থ নিশ্চিত করছে, সেখানে সংগঠিত শ্রমিক ও সাধারণ জনগণই একমাত্র শক্তি যা এই শোষণ ভেঙে দিতে পারে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এই আন্দোলন প্রমাণ করে, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ যখন সংহত হয় এবং সচেতন হয়, তখন পুঁজিবাদী লুটপাটের অবিচার চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়। এটি কেবল স্থানীয় প্রতিবাদ নয়; এটি শ্রমিক শ্রেণির ঐক্য, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সামাজিক ন্যায়ের এক নবযাত্রা। ইতিহাস প্রমাণ করেছে—শ্রমিক শক্তি সংগঠিত না হলে পুঁজিবাদী শোষণ অব্যাহত থাকে, আর এই আন্দোলন সেই চক্রকে ভাঙার স্পষ্ট উদাহরণ।