বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া কেবল একজন রাজনৈতিক নেত্রী নন—তিনি ইতিহাস, তিনি সময়ের ধারায় অমর এক নাম। তিনি প্রতিটি বাঙালি নারীর প্রেরণা, শক্তি ও সাহসের প্রতীক হয়ে থাকবেন।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আয়োজনে বিএনপি চেয়ারপারসনের বিদায়ী আত্মার মাগফিরাত কামনায় অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
আলাল বলেন, নারী শিক্ষার অগ্রগতিতে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান বাংলাদেশের ইতিহাসে অনন্য। আমরা সবসময় বলে আসি—নারী শিক্ষিত হলে পরিবার শিক্ষিত হয়, সন্তান শিক্ষিত হলে জাতি শিক্ষিত হয়। সেই দর্শনের বাস্তব রূপ দিয়েছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর অনুপস্থিতি প্রাথমিক শিক্ষায় তাঁর অবদানকে যুগ যুগ ধরে আমাদের স্মরণ করিয়ে দেবে।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালের পর যে প্রতিক্রিয়া ও পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা কেবল বাংলাদেশের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নয়। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও এর প্রভাব স্পষ্ট। বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় না থেকেও আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর তৎপরতা প্রমাণ করে, বেগম খালেদা জিয়া ও তাঁর পরিবার কতটা বহুমাত্রিক রাজনৈতিক গুরুত্ব বহন করে।
আলোচনায় তিনি আরও বলেন, গভীর শোকের মধ্যেও তারেক রহমান শ্রীলঙ্কার প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এই ঘটনা বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা বহন করে—বিএনপির রাজনীতি আবেগ নয়, দায়িত্ব ও রাষ্ট্রীয় বিবেচনায় পরিচালিত।
অ্যাডভোকেট আলাল বলেন, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে যেভাবে বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুসংবাদ প্রচারিত হয়েছে, তাতে মনে হয়েছে বিশ্ব যেন এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেছে। তিনি সবসময় বলতেন—বাংলাদেশের বাইরে তাঁর কোনো ঠিকানা নেই। মহান আল্লাহ তাঁর সেই আকুতি কবুল করেছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, বিদেশি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও বেগম খালেদা জিয়া দেশের মাটিতেই চিকিৎসা ও মৃত্যুকে বেছে নিয়েছেন। জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে তিনি বাংলাদেশকেই নিজের একমাত্র ঠিকানা হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
আলাল বলেন, ফ্যাসিবাদের পতনের পর ৭ আগস্ট জাতির উদ্দেশে দেওয়া তাঁর ভিডিও বার্তায় প্রতিশোধ কিংবা উসকানির কোনো ভাষা ছিল না। সেখানে ছিল শান্তি, আইন ও ন্যায়বিচারের আহ্বান। এটাই বেগম খালেদা জিয়ার অন্তর্ভুক্তিমূলক ও রাষ্ট্রনায়কসুলভ রাজনীতির প্রকৃত পরিচয়।
সবশেষে তিনি বলেন, যুগে যুগে বেগম খালেদা জিয়ার মতো মানুষ জন্মান না। শতাব্দীতে হয়তো একজনই জন্মান। আমরা যদি তাঁর চরিত্র ও আদর্শের সামান্য অংশও নিজেদের জীবনে ধারণ করতে পারি, তবেই এই স্মরণসভা সার্থক হবে।