জহির শাহ্, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবুবকর সরকারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব ও দায়িত্ব পালনে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী রুমিন ফারহানা।
বুধবার বিকেলে সিইসির কাছে দাখিল করা লিখিত অভিযোগে রুমিন ফারহানা উল্লেখ করেন, নির্বাচনী এলাকায় সংঘটিত একাধিক গুরুতর অনিয়ম ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউএনওকে অবহিত করা হলেও তিনি কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি। এতে নির্বাচনী পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সমান মাঠ (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) নিশ্চিত হচ্ছে না বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
রুমিন ফারহানা গণমাধ্যমকে বলেন, তিনি সুপ্রিম কোর্টের একজন সিনিয়র আইনজীবী এবং বৈধ প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও সরাইলের ইউএনও তার সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলার সময় অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন। এই আচরণ একজন দায়িত্বশীল প্রশাসনিক কর্মকর্তার নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার আচরণে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে তিনি কোনো একটি নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের দায়িত্ব হলো সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা। কিন্তু বাস্তবে অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও পদক্ষেপ না নেওয়ায় নির্বাচনী আচরণবিধি কার্যকরভাবে প্রয়োগ হচ্ছে না। এ অবস্থায় নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে কি না—সে প্রশ্ন ভোটারদের মধ্যেও তৈরি হচ্ছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবুবকর সরকার ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, রুমিন ফারহানার সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি কোনো ধরনের অসৌজন্যমূলক আচরণ করেননি এবং তার বিরুদ্ধে আনা পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিনি নিরপেক্ষতা বজায় রেখেছেন এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।
এদিকে রুমিন ফারহানা সিইসির কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপ ও প্রতিকার দাবি করেছেন। তার মতে, নির্বাচন কমিশনের সরাসরি নজরদারি ছাড়া এই পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে এমন অভিযোগ স্থানীয় রাজনীতিতে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই এই অভিযোগের গুরুত্ব বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।